শিরোনাম :
সাপ্তাহিক আলোর মনি পত্রিকার অনলাইন ভার্সনে আপনাকে স্বাগতম। # সারাবিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পড়তে আমাদের সঙ্গেই থাকুন। -ধন্যবাদ।
শিরোনাম :
শিশু নন্দিনী হত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করা হবে-মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু গোশালা রোড ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি নিরসন: বসছে নতুন ট্রান্সফরমার, আজ রাতেই বিদ্যুৎ সচল হওয়ার আশা মোবাইল কোর্টের অভিযানে ৬হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায় শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ অনুষ্ঠিত বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আব্দুল মজিদের প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শন ও গার্ড অব অনার প্রদান সাকোয়ার মঞ্জিল বিএম কলেজের সহকারী অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম শফি-এঁর ইন্তেকাল ১৬৪ ধারায় আদালতে বিধানের স্বীকারোক্তি ‘ক্ষোভ থেকে নন্দিনীকে হত্যা পর মরদেহ মাটি খুড়ে পুতে রাখেন বিধান’ প্রাচীর ভেঙ্গে বিল্ডিং নির্মাণ : ৬০লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে পুনরায় কারণ দর্শানো নোটিশ জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক পেলেন লালমনিরহাটের সোনালী দুর্নীতিবিরোধী রচনা, বিতর্ক, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত
লালমনিরহাটের ঐতিহ্য নদীতে মাছ ধরার কাঠাল দি‌য়ে মাছ শিকার

লালমনিরহাটের ঐতিহ্য নদীতে মাছ ধরার কাঠাল দি‌য়ে মাছ শিকার

লালমনিরহাটে ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’ এই প্রবাদটি সেই হাজার বছরের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের পরিচয় বহন করে। এরই ধারাবাহিকতায় আদি কাল থে‌কে মাছ ধরার নানা পদ্ধতি চালু আছে আমাদের এ দেশ তথা জেলায়। লালমনিরহাটের গ্রামীণ জীবনের পথে-প্রান্তরে সে সব বৈচিত্রের দেখা মেলে। নদীমাতৃক জীবনাচারে জেলের মাছ ধরার পদ্ধতি নাগরিক জীবনকে ঘোরের মধ্যে ফেলে দেবে।

 

মাছ ধরার প্রাচীণ পদ্ধতির একটি হলো কাঠাল দি‌য়ে মাছ শিকার। এই পদ্ধ‌তি‌তে নদী-নালা, খাল-বিল, ডোবা বা পু‌কুরে প্রথ‌মে গা‌ছের ডালপালা, বাঁশ-বাঁশের আগালি দেওয়া হয়। তারপর কচুরিপানা দি‌য়ে সে জায়গা ঢে‌কে দেওয়া হয়। ফলে সেখানে আর অন্য কারও মাছ ধরার নিয়ম থাকে না। কাঠাল হিসেবে সব‌চে‌য়ে কার্যকর তেতুল গাছের ডালপালা ও বড় বাঁশ-বাঁশের আগালি। এই গাছের ডা‌ল ও বাঁশের আগালি দিয়ে কাঠাল দি‌লে মাছ বেশি পাওয়া যায়। বর্তমা‌নে তেতুলের ডাল পাওয়া বেশ কষ্টসাধ্য ব্যাপার। আবার দামও বেশি। কিন্তু বাঁশ ও বাঁশের আগালি অত্যন্ত সহজলভ্য। তাই এর ব্যবহার বেশি হচ্ছে বর্তমানে।

 

কাঠাল ও কচুরিপানা দিয়ে ঘের তৈরি করার পর সেখানে বস্তাবন্দি করে খাবার দেওয়া হয়। খাবারের ঘ্রাণে ঝাঁকে ঝাঁকে মাছ আসে। মাছ এই জায়গাটাকে নিরাপদ মনে করে। যেন তার অভয়ারণ্য। ধীরে ধীরে ঘের থেকে পানি কমতে থাকে। মাছের ঘনত্ব বাড়তে থাকে। নির্দিষ্ট সময়ের পর কাঠাল থেকে মাছ সংগ্রহ করা হয়ে থাকে।

 

মাছ ধরার কাঠালীরা জানান, আমরা নদীর খালগু‌লোতে গাছের ডাল ও বাঁশ-বাঁশের আগালি এবং কচুরিপানা দি‌য়ে ঢে‌কে দিই, যা‌তে কেউ মাছ মার‌তে না পা‌রে। মাছকে আকৃষ্ট কর‌তে পর্যাপ্ত খাবার বাঁশের সঙ্গে বস্তা দি‌য়ে বেঁধে দিই।

 

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে প্রায় লোকই বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ করে। কাঠাল দিয়ে মাছ শিকারের দৃশ্য এখন আর তেমন চোখে পড়ে না। সেই জলাশয়, বিল আর ডোবাগুলোই তো হারিয়ে যাচ্ছে দিনের পর দিন। একদিন হয়তো কাঠাল দিয়ে মাছ শিকারের ব্যাপারটিও হারিয়ে যাবে। কিন্তু না হারিয়ে যায়নি। এর ঐতিহ্য ধরে রেখেছে লালমনিরহাটের মোগলহাট ইউনিয়নের কোদালখাতা ও কুলাঘাট ইউনিয়নের বনগ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া রত্নাই নদীর পাড়ের মানুষেরা। এ নদীতে মাছ ধরার কাঠাল দেওয়ার দৃশ্য হর হামেশাই চোখে পড়ে।

 

এছাড়াও লালমনিরহাট জেলার তিস্তা, ধরলা, রত্নাই, স্বর্ণামতি, শিংগীমারী, সানিয়াজান, ত্রিমোহনী, সাকোয়া, মরাসতি, ধোলাই, গিদারী, ছিনাকাটা নদীগুলোতে মাছ ধরার কাঠাল দিয়ে মাছ আহরণ করতে দেখা গেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন




এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি
Design & Developed by Freelancer Zone